সর্বশেষ সংবাদ :

মালয়েশিয়ায় ৩৯ কর্মীর ৬ মাস ধরে বেতন নেই

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান আল ইসলাম ওভারসিস থেকে যাওয়া ৩৯ জন শ্রমিক কোম্পানিতে কাজ করলেও তাদের গত ছয় মাস ধরে বেতন দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হতে থাকলে গত ১২ এপ্রিল কোম্পানি থেকে পালিয়ে ২৮ শ্রমিক দেশটিতে থাকা বাংলাদেশ হাইকমিশনে আশ্রয় নিয়েছেন।

এ দিকে ৩৯ শ্রমিকের করুণ অবস্থা তুলে ধরে জসিম নামের এক শ্রমিকের পিতা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর যুগ্মসচিব (পরিচালক কর্মসংস্থান) মোহাম্মদ আতাউর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই সেটি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলরের (শ্রম) কাছে ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে।

১১ এপ্রিল পাঠানো ওই ই-মেইলের অনুলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মেসার্স আল ইসলাম ওভারসিজ (আরএল-১০৬) অরচার্ড ফারুক টাওয়ার, ৭২ নয়াপল্টন সুইট-৭ (৭ম তলা), ভিআইপি রোড ঢাকা-১০০০। দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে ৩৯ জন কর্মীর বকেয়া বেতনসহ কাজের ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে বিএমইটিকে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। ব্যর্থতায় রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার বিকেলে আল ইসলাম ওভারসিসের স্বত্বাধিকারী জাফর ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

লেবার কাউন্সিলরকে লেখা অভিযোগের বর্ণনায় বলা হয়েছে, রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স আল ইসলাম ওভারসিজের (আরএল-১০৬) মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় প্রেরিত কর্মী মো: জসিম উদ্দিনের পিতা আরু মিয়া অভিযোগ করেন, তার ছেলে জসীমসহ ৩৯ জন কর্মী কাজের উদ্দেশ্যে ওই রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় গমন করেন। মালয়েশিয়াস্থ কোম্পানির নাম মোহামেদ রিসা বারকাত এসডিএন বিএইচডি। জালান টাখ তামান আয়ার কিরো হাইট মেলাক্কা। এসব কর্মী মালয়েশিয়া যাওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত ছয় মাস যাবৎ কোম্পানিতে কাজ করলেও কোনো বেতন-ভাতা দেয়া হয়নি। অভিযোগকারীর ছেলেসহ প্রায় ৩৯ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় অসহায় অবস্থায় অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। রিক্রুটিং এজেন্সি আল ইসলাম ওভারসিজের কর্তৃপক্ষকে বারবার ফোন দিয়ে কোনো প্রতিকার পায়নি। বর্তমানে বিষয়টি মানবিক দিক বিবেচনা করে মালয়েশিয়া হাইকমিশনের সহায়তা নিয়ে সহায় সম্বলহীন কর্মীদের বকেয়া বেতন ও কাজের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আবেদনে অনুরোধ করা হয়।

শুক্রবার রাতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর যুগ্মসচিব (পরিচালক কর্মসংস্থান) মোহাম্মদ আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। একজন ডিডি ও একজন এডির সমন্বয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে করা অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করতে দেয়া হয়েছে। তারা এসে রিপোর্ট দিলে আমরা রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাব। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, সৌদি আরবে যাওয়া এমন অনেক অভিযোগ আমাদের ব্যুরোতে জমা পড়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রতিটি ঘটনায় অ্যাকশন নিয়ে থাকি।

এর আগে মালয়েশিয়া থেকে এক প্রবাসী বলেন, ১২ এপ্রিল ওই কোম্পানি থেকে কৌশলে ২৮ জন শ্রমিক পালিয়ে হাইকমিশনে আশ্রয় নিয়েছেন। বিষয়টি এখন হাইকমিশন থেকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গতকাল হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, জি টু জি প্লাস পদ্ধতিতে আসা শ্রমিকদের যদি কোনো কোম্পানি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে বেতনভাতা দিতে গড়িমসি করে তাহলে ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে জরিমানাও করা হবে।

Source: rtnn

log

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

shared on wplocker.com