সর্বশেষ সংবাদ :

শিশুশ্রমের মিছিল যেন, র্দীঘ থেকে র্দীঘতর হচ্ছে

মো.শামীম মিয়া : শিশুরা পবিত্র সর্বদায় সুন্দর ও নিষ্পাপ। কেননা তাদের মাঝে কোন সাম্প্রদায়ীকতার বোধ নেই। শিশুরা ঠিক মাটির মতোই, ওদের যে ভাবে গড়ে তোলা হবে ওরা ঠিক সেই ভাবেই গড়ে উঠবে। তাই তো আমরা বলে থাকি, আজকের শিশুরা জাতির সোনালি ভবিষতের স্থপতি। গুণিজনরা বলেন, সুন্দর কল্যাণকর জাতি গঠনের জন্য জাতির ভবিষ্যত স্থাপিতগণ সকল সম্ভাবনাসহ সুস্থ, স্বাভাবিক, ও স্বাধীন র্মযাদা নিয়ে, শারীরিক, মানসিক, নৈতিক, আধ্যাতিœক, এবং সামাজিক ভাবে পূণ বিকাশ লাভ করতে পারবে এমন একটি অনুকুল পরিবেশ জরুরি শিশুদের জন্য। তাই শিশুদের কে দেশও জাতির কর্ণধার রুপে তৈরী করতে বিরামহীন কাজ করছেন পরিবারের প্রধানরা। কেননা তারা জানেন এই শিশুদের মাঝে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্র, সমাজের ও পারিবারিক সুখ শান্তি। আবার দারিদ্র্য অস্বচ্ছল গরিব পরিবারের সুবিধা বঞ্চিত প্রায়ই শিশুরা নিতান্ত পেটের দায়ে ঝুকির্পূণ কাজ গুলোকে তাদের নিত্য নৈমিত্তিক পেসা হিসাবে বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে । শিক্ষা, খেলাধুলা,খাদ্য, পুষ্টি, বিনোদন ও স্বাস্থ্যের মতো অধিকার নিরাপদ আশ্রয় থেকেও এরা বঞ্চিত। আমাদের দেশে শিশুশ্রমের মিছিল যেন র্দীঘ থেকে র্দীঘতর হচ্ছে। শিশুরা যেসব কাজে সহজে যুক্ত হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: ওর্য়াকশপ, ওয়েডিং, গ্লাস কারখানা, লেদ মেশিন, মাদক বাহক, যৌন কর্মী, বেলুন কারখানা,রিশকা চালানো, নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী, এমব্রয়ডারি শিল্প,চিংড়ি হ্যাচারি,শুটকি তৈরি,লবণ কারখানা,কৃষি কাজ, হোটেল বয়,বেডিং সেন্টারের শ্রমিক, ইট ভাঙ্গা,কুলি কাজ, ব্যাটারি, ভাঙ্গরি দোকানে, ইলেকট্রিক্যালও ইলেকট্রনিক্স, যন্ত্রাংশ কারখানা, সাবান শ্যাম্পু তৈরীর কারখানা,মোমবাতি তৈরীর কারখানা, ধাতব কারখানা, হাঁড়ি পাতিল বানানো, ছোট ছোট কুটির শিল্প কারখানাসহ ইত্যাদিতে, শিশুরা নি¤œ মজুড়িতে বিক্রি করছে শৈশব। শিশুরা শ্রমে জড়িয়ে পরে এর একক কোন কারণ নেই এর একাধিক কারণ আছে যেমন. ব্যাপক দারিদ্র্যতা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দূযোগের ফলে সৃষ্ট দুরবস্থা,অশিক্ষা ও সচেতনতার অভাব,কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, শ্রমের বিরুপ প্রতিক্রয়া, রাজনৈতিক অস্তিরতা, সর্ম্পকের জনসচেতনতার অভাব,স্বল্প বেতনে শিশু শ্রমিকের প্রাপ্তি, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব, পারীবারিক বিচ্ছেদ,পিতা মাতা উপাজনক্ষর্ম,ব্যক্তির মৃত্যু বা দূঘটনায় পঙ্গুত্ব বরন,ভবিষ্যত কর্মস্থানের অনিশ্চয়তা,অনাকষনীয় শিক্ষা ব্যবস্থা,প্রযাপ্ত বিদ্যালয়ের অভাব,পরিবারের আকার বড় হওয়া,বাবা-মার ইচ্ছা না থাকা বা অর্থের লোভ, অনেক বাবা-মা বলেন সন্তানকে লেখা পড়া শিখিয়ে লাভ কী মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,ঘুষ ছাড়া চাকরি নেই, তাই তারা বলেন আমরা গরিব আমাদের পক্ষে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে চাকুরী নেওয়া সম্ভাব নয় ,তাই সন্তানকে ছোট বেলা থেকে কাজে পাঠাই সে যেন তার ভবিষ্যত রঙ্গিন করতে পারে- এই রকম মনোভাব, শহরে বস্তির বিস্তার ইত্যাদি।

বর্তমান সরকারের আমলে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। এই উন্নয়নের সাথে জড়িয়ে আছে সরকারের সদিচ্ছা ও বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার এক কঠোর সংকল্প। যা আমাদের জাতির জন্য সুখবর ও আনন্দের। তবে শিশুশ্রম রোধে আমরা অনেক পিছিয়েই রয়েছি। গুণিজনরা বলেন, শিশুশ্রম হলো সামাজিক শোষনের দীর্ঘস্থায়ী এক হাতিয়ার। যে কোন দেশের শিশুশ্রম দেশকে উন্নয়নে কতটা পিছিয়ে দেয় তা তার নির্দেশক হিসেবে ধরা হয়। সরকার ইউনিসেফসহ দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন আপোষহীন ভাবে কাজ করছে শিশুশ্রম রোধে। তবুও রোধ করা যাচ্ছে না শিশুশ্রম, শিশু র্নিযাতন, শোষন ইত্যাদি। শিশুদের অধিকার, শিশুদের র্নিযাতন, তথা শিশুদের খারাপ কাজ থেকে রক্ষা করা বা সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠার জন্য,অবহেলা রোধ করার জন্য,শিশু উন্নয়নের জন্য অসংখ্য আইন করেছেন সরকার। কিন্ত সমস্যা একটাই প্রয়োগের । আমি মনে করি, এই ভবিষ্যৎ প্রবক্তাদের চোখে মুখে যদি আমরা আলোর রেণু এঁকে দিতে চাই তাহলে সবার আগে তাদের উপযোগী পৃথিবী আমাদের গড়ে দিতে হবে। তাদের বেড়ে উঠতে দিতে হবে অনুকুল পরিবেশ। আমি নিজেই একজন শিশু শ্রমিক আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে থেকে বলি শিশুশ্রম রোধে কেবল বেসরকারী প্রতিষ্ঠান আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সরকারের পক্ষে একক ভাবে সমস্যা সমাধান করা সম্ভাব নয়, পেশাজীবি সুশীল সমাজ,নীতি-নিধারক, সাংবাদিক, বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ সবার সম্মিলিত প্রয়াসই পারে পারে আজকের অবহেলিত শিশুদের প্রতিকুল পরিবেশ থেকে অনুকুল পরিবেশে আনতে।

log

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

shared on wplocker.com